বাংলা যুক্তবর্ণের পরিচয় ও এদের সঠিক ব্যবহার

সর্বশেষ আপডেট:

বিভিন্ন ভাষায় দেখা যায়, একধিক বর্ণ মিলিত হয়ে একটি ক্যারেক্টারের আকৃতি লাভ করে। এদেরকে যুক্তবর্ণ বা যুক্তাক্ষর বলা হয়। বাংলাতেও ৩০০’র কাছাকাছি যুক্তবর্ণ রয়েছে।

এই নিবন্ধে যুক্তবর্ণ সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু আলোচনা করা হয়েছে। আমার আরেকটি নিবন্ধ যুক্তবর্ণ সমূহের তালিকা’তে প্রত্যেকটি যুক্তবর্ণের বিশ্লেষণ ও শব্দের উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে। আশা করি দুটি নিবন্ধ থেকেই আমরা অনেক কিছু জানতে পারবো।

যুক্তবর্ণ বা যুক্তাক্ষর কী?

বাংলা ভাষায় দুটি ব্যঞ্জনবর্ণ মিলিত হয়ে যুক্তবর্ণ বা যুক্তাক্ষর গঠিত হয়। যেমন, বাংলায় দুটি “ক” বর্ণ মিলিত হয়ে “ক্ক” যুক্তবর্ণটি গঠিত হয়। যুক্তবর্ণকে ইংরেজিতে Conjunct বা Ligature বলা হয়।

অনেক সময় গঠিত যুক্তবর্ণের চেহারা অনেকটা বা সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। যেমন:- ক্ত, ক্ষ, গ্ধ, ঙ্ক, ঙ্গ, ঞ্চ, ট্ট, ণ্ড, ত্ত, ত্থ, হ্ম ইত্যাদি। আবার রেফ ও ফলা আকারেও বাংলায় বর্ণ যুক্ত হয়। যেমন: ক্র, খ্র, গ্র,… ক্য, খ্য, গ্য ইত্যাদি।

যুক্তবর্ণ শব্দের গঠন ও অর্থ

যুক্তবর্ণ শব্দটি স্পষ্টতই যুক্ত ও বর্ণ শব্দদ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। অপরদিকে যুক্তাক্ষর শব্দটি বিশ্লেষণ করলে “যুক্ত + অক্ষর” পাওয়া যায়।

বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধানে “যুক্তবর্ণ” শব্দটি পাইনি। আর বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে ভুক্তি (Entry) হিসেবে শব্দটি না থাকলেও মুখবন্ধে আলোচনায় ও যুক্তবর্ণের আলোচনায় শব্দটি রয়েছে। তবে দুটি অভিধানেই “যুক্তাক্ষর” ভুক্তিটি রয়েছে। সেখানে যুক্তাক্ষর শব্দটিকে বিশেষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যার অর্থ দেয়া আছে “মিলিত অক্ষর; সংযুক্ত বর্ণ; একাধিক বর্ণ এক সঙ্গে যুক্ত করে লিখিত ও উচ্চারিত।”

অন্যদিকে “বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান” এ দুটি শব্দই বিশেষ্য হিসেবে রয়েছে। এদের অর্থ দেয়া হয়েছে “দুই বা ততোধিক ব্যঞ্জনের সংযুক্ত রূপ”।

উৎস:

  • বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। পৃষ্ঠা-১১৪৯
  • বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান। পৃষ্ঠা-১০১১
  • বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান। পৃষ্ঠা-৪৮৩

যুক্তবর্ণ শব্দের সঠিক বানান

যুক্তবর্ণ শব্দটি লিখতে গিয়ে অনেকে ভুল করে ফেলেন। যেমন, কেউ কেউ যুক্ত ও বর্ণ আলাদা করে “যুক্ত বর্ণ” লিখে থাকেন। আবার অনেকে মূর্ধন্য-ণ এর জায়গায় দন্ত্য-ন বসিয়ে “যুক্তবর্ন” কিংবা “যুক্ত বর্ন” লিখে থাকেন। প্রমিত শব্দটি হলো “যুক্তবর্ণ”।

“সংযুক্ত বর্ণ” বোঝাতে “যুক্তবর্ণ” শব্দটি ব্যবহৃত হলেও অবস্থার প্রেক্ষিতে (Context) “যুক্ত বর্ণ” শব্দটিও সঠিক। যেমন: চন্দ্রবিন্দু যুক্ত বর্ণ, আ-কার যুক্ত বর্ণ ইত্যাদি।

কঠিন যুক্তবর্ণের তালিকা: অস্বচ্ছ ও স্বচ্ছ রূপ

কিছু কিছু যুক্তবর্ণ রয়েছে যেগুলো দেখতে এদের মূল বর্ণগুলো থেকে আলাদা। এগুলো চিনতে প্রথম প্রথম একটু বেগ পেতে হয়, তাই কঠিন মনে হয়। অবশ্য বর্তমানে অনেক স্ক্রিপ্টে আগের মতো না লিখে সরাসরি বর্ণগুলো জোড়া লাগিয়ে দেয়া হয়। যেমন “ক্ত” না লিখে, ক-এর নিচে ত বসিয়ে দেয়া হয়। নিচের ছবিতে কিছু যুক্তবর্ণের অস্বচ্ছ ও স্বচ্ছ রূপ দেয়া হলো।

কয়েকটি যুক্তবর্ণের অস্বচ্ছ ও স্বচ্ছ রূপ
কয়েকটি যুক্তবর্ণের অস্বচ্ছ ও স্বচ্ছ রূপ

যাই হোক, যেসব যুক্তবর্ণের চেহারা এদের মূল বর্ণগুলো থেকে অনেকটা আলাদা সেগুলোর তালিকা নিচে দেয়া হলো।

  • ক্ত = ক্ + ত
  • ক্র = ক্ + র (ক + র-ফলা)
  • ক্ষ = ক্ + ষ
  • গ্ধ = গ্ + ধ
  • ঙ্ক = ঙ্ + ক
  • ঙ্গ = ঙ্ + গ
  • ঞ্চ = ঞ্ + চ
  • ট্ট = ট্ + ট
  • ণ্ড = ণ্ + ড
  • ত্ত = ত্ + ত
  • ত্থ = ত্ + থ (থ ও ত্থ এর মধ্যে পার্থক্য খুব সামান্য। ভালোভাবে লক্ষ্য করতে হয়)
  • ত্র = ত্ + র (ত + র-ফলা)
  • দ্ধ = দ্ + ধ
  • ন্থ = ন্ + থ (ন + হ নয়)
  • ন্ধ = ন্ + ধ
  • ব্ধ = ব্ + ধ
  • ভ্র = ভ্ + র ( ভ + র-ফলা)
  • ষ্ণ = ষ্ + ণ (ষ + ঞ নয়)
  • স্থ = স্ + থ (স + হ নয়)
  • হ্ণ = হ + ণ (হ + ন নয়)
  • হ্ন = হ + ন (হ + ণ নয়)
  • হ্ম = হ্ + ম (ক্ষ ও হ্ম সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি যুক্তবর্ণ)

বাংলা যুক্তবর্ণ-সমূহ

নিচে বাংলা যুক্তবর্ণগুলো দেয়া হলো (র-ফলা, য-ফলা ও রেফ ব্যতীত):

ক্ক, ক্ট, ক্ট্র, ক্ত, ক্ত্র, ক্ব, ক্ম, ক্ল, ক্ল্য, ক্ষ, ক্ষ্ণ, ক্ষ্ণ্য, ক্ষ্ব, ক্ষ্ম, ক্ষ্ম্য, ক্ষ্য, ক্স, গ্ণ, গ্ধ, গ্ধ্য, গ্ধ্র, গ্ন, গ্ন্য, গ্ব, গ্ম, গ্র্য, গ্ল, ঘ্ন, ঙ্ক, ঙ্ক্ত, ঙ্ক্য, ঙ্ক্র, ঙ্ক্ষ, ঙ্খ, ঙ্গ, ঙ্গ্য, ঙ্ঘ, ঙ্ঘ্য, ঙ্ঘ্র, ঙ্ম, চ্চ, চ্ছ, চ্ছ্ব, চ্ছ্র, চ্ঞ, জ্জ, জ্জ্ব, জ্ঝ, জ্ঞ, জ্ব, ঞ্চ, ঞ্ছ, ঞ্জ, ঞ্ঝ, ট্ট, ট্ব, ট্ম, ট্র্য, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, ণ্ঠ্য, ণ্ড, ণ্ড্য, ণ্ড্র, ণ্ঢ, ণ্ন, ণ্ব, ণ্ম, ত্ত, ত্ত্ব, ত্ত্য, ত্থ, ত্ন, ত্ন্য, ত্ব, ত্ম, ত্ম্য, ত্র্য, থ্ব, দ্গ, দ্ঘ, দ্দ, দ্দ্ব, দ্ধ, দ্ধ্য, দ্ব, দ্ব্য, দ্ভ, দ্ভ্র, দ্ম, দ্র্য, ধ্ন, ধ্ব, ধ্ম, ন্ট, ন্ট্র, ন্ঠ, ন্ড, ন্ড্র, ন্ত, ন্ত্ব, ন্ত্য, ন্ত্র, ন্ত্র্য, ন্থ, ন্থ্র, ন্দ, ন্দ্ব, ন্দ্য, ন্দ্র, ন্ধ, ন্ধ্য, ন্ধ্র, ন্ন, ন্ন্য, ন্ব, ন্ম, ন্স, প্ট, প্ত, প্ত্র, প্ন, প্প, প্র্য, প্ল, প্ল্য, প্স, ফ্ল, ফ্ল্য, ব্জ, ব্দ, ব্দ্য, ব্ধ, ব্ধ্য, ব্ব, ব্র্য, ব্ল, ব্ল্য, ম্ন, ম্প, ম্প্র, ম্প্ল, ম্ফ, ম্ব, ম্ভ, ম্ভ্র, ম্ম, ম্ল, র্ক্য, র্গ্য, র্গ্র, র্গ্ল, র্ঘ্য, র্ঙ্গ, র্চ্য, র্জ্য, র্জ্ঞ, র্ঢ্য, র্ণ্য, র্ত্ম, র্ত্য, র্ত্র, র্থ্য, র্দ্ব, র্দ্য, র্দ্র, র্ধ্ব, র্ব্য, র্ম্য, র্ল্ড, র্শ্ব, র্শ্য, র্ষ্ট, র্ষ্ট্য, র্ষ্ণ, র্ষ্ণ্য, র্ষ্য, র্স্ট, র্হ্য, র্ৎ, ল্ক, ল্ক্য, ল্গ, ল্ট, ল্ট্র, ল্ড, ল্প, ল্প্য, ল্ফ, ল্ব, ল্ভ, ল্ম, ল্ল, শ্চ, শ্ছ, শ্ন, শ্ব, শ্ম, শ্ল, ষ্ক, ষ্ক্র, ষ্ট, ষ্ট্য, ষ্ট্র, ষ্ঠ, ষ্ঠ্য, ষ্ণ, ষ্ণ্য, ষ্প, ষ্প্র, ষ্ফ, ষ্ব, ষ্ম, ষ্ম্য, স্ক, স্ক্র, স্ক্ল, স্খ, স্ট, স্ট্য, স্ট্র, স্ত, স্ত্ব, স্ত্য, স্ত্র, স্থ, স্থ্য, স্ন, স্প, স্প্র, স্প্ল, স্প্ল্য, স্ফ, স্ব, স্ম, স্ল, হ্ণ, হ্ন, হ্ব, হ্ম, হ্ল, ড়্‌গ

প্রতিটি যুক্তবর্ণের দ্বারা গঠিত শব্দের তালিকা এই নিবন্ধে দেয়া হয়েছে।

যুক্তবর্ণ ও ফলা’র উচ্চারণ

অধিকাংশ যুক্তবর্ণ সংশ্লিষ্ট মূল বর্ণগুলোর অনুরূপ উচ্চারিত হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে উচ্চারণ পরিবর্তিত হয়ে যায়। আবার কোনো কোনো যুক্তবর্ণের ক্ষেত্রে শব্দের শুরুতে এক রকম, আর শব্দের মাঝে আরেক রকম উচ্চারণ লক্ষ্য করা যায়।

ক্ষ যুক্তবর্ণ

ক্ ও ষ বর্ণ দুটির যুক্তরূপ। একে “খিয়ো” বা “যুক্ত খ” বলা হলেও শব্দের মধ্যে এর উচ্চারণ দুই রকম।

  1. শব্দের শুরুতে “খ”-এর মতো উচ্চারণ (ক্ষমা, ক্ষয়, ক্ষীণ)।
  2. অন্যান্য ক্ষেত্রে “ক্‌খ” ক্বচিৎ “খ্‌খ” রূপে (রুক্ষ, লক্ষণ) উচ্চারিত হয়।

জ্ঞ যুক্তবর্ণ

জ্ ও ঞ বর্ণ দুটির যুক্তরূপ হলেও উচ্চারণে “জ্” এবং “ঞ” বর্ণ দুটির কোনোটিকেই পাওয়া যায় না।

  1. এই যুক্তবর্ণটি আদিতে থাকলে “গঁ” রূপে (জ্ঞান, জ্ঞাপন, জ্ঞেয়) এবং
  2. অনাদি অবস্থায় “গ্‌গ” রূপে উচ্চারিত হয় (অজ্ঞ, বিজ্ঞ, অজ্ঞান)।

ঞ্জ যুক্তবর্ণ

ঞ্ ও জ বর্ণ দুটির যুক্তরূপ। উচ্চারণে পরবর্তী বর্ণ “জ”-এর ধ্বনি অটুট থাকলেও ‘ঞ্’ বর্ণটি ‘ন্’-রূপে উচ্চারিত হয় (অঞ্জন, ব্যঞ্জন, সঞ্জয়)। যুক্তবর্ণটি কখনো শব্দের প্রারম্ভে অবস্থান করে না বা উচ্চারিত হয় না।

ম-ফলা

  1. শব্দের আদিবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে ম-ফলা উচ্চারিত হয় না। তবে কখনো কখনো ঐ বর্ণটিকে অনুনাসিক করে। যথা : শ্মশান, স্মরণ।
  2. শব্দের অনাদি বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে ম-ফলা ঐ বর্ণটিকে উচ্চারণে দ্বিত্ব ও অনুনাসিক করে (এই নিয়মের ব্যতিক্রম ‘হ্ম’)। যথা—-আত্মা, পদ্ম (উচ্চারণে যথাক্রমে আত্‌তাঁ, পদ্‌দোঁ)।
  3. ম-ফলা যুক্ত বর্ণের ‘ম’ কখনো কখনো উচ্চারিত হয়। যথা : যুগ্ম=যুগ্‌মো, বাগ্মী=বাগ্‌মি, মৃণ্ময়=মৃন্‌ময়)।

য-ফলা

‘্য’—(য-ফলা) সর্বদাই অন্য বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়; বর্ণ হিসেবে এর একক অবস্থান নেই। এটি কখনো সংস্কৃতের মতো ‘ইয়’-রূপে উচ্চারিত হয় না।

  1. “্য” কোনো শব্দের আদি বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে সাধারণত ঐ বর্ণটিকে শ্বাসাঘাতযুক্ত করে (একটু জোর দিয়ে) উচ্চারণ করতে হয় মাত্র। যথা : চ্যবন, দ্যুতি, স্যন্দন, ন্যুব্জ, ন্যস্ত। কিন্তু “ব্যবচ্ছেদ”, “ব্যথা”, “ব্যবধান”, “ব্যবসা” প্রভৃতি সংস্কৃত শব্দগুলি বাংলা উচ্চারণে “অ্যা” ধ্বনিতে পরিণত হয় (বাংলা উচ্চারণে ব্যাবোচ্‌ছেদ, ব্যাথা, ব্যাবোধান, ব্যাব্‌শা)।
  2. “্য” কোনো শব্দের আদি বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে ক্বচিৎ “ে” (এ-কার) রূপে উচ্চারিত হয়। যেমন: ব্যক্তি, ব্যতীত (উচ্চারণে বেক্‌তি, বেতিতো)
  3. অনাদি বর্ণের সঙ্গে যুক্ত য-ফলা বর্ণটির উচ্চারণ দ্বিত্ব করে। যথা—মধ্য, সত্য, দ্রব্য (উচ্চারণ যথাক্রমে মোদ্‌ধো, বা মোধ্‌ধো, শোত্‌তো, দ্রোব্‌বো)। ব্যতিক্রম :‘বাহ্য’ শব্দটিতে য-ফলা “জ্” রূপে হ্- এর আগেই উচ্চারিত হয় (বাজ্‌ঝো)।

ব-ফলা

ব-ফলা সর্বদাই অন্য বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হয়। বর্ণ হিসেবে এটি কখনো সংস্কৃতের মতো ‘উঅ’–রূপে, ইংরেজি W (ওয়া) রূপে এবং আরবি ‘ওয়াও’ রূপে উচ্চারিত হয় না।

  1. ব-ফলা শব্দের আদি বর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে বর্ণটিকে শ্বাসাঘাতসম্পন্ন করে মাত্র এবং বর্ণটিকে একটু জোর দিয়ে উচ্চারণ করতে হয়। যথা : শ্বাপদ, ত্বরা, দ্বারা, দ্বীপ।
  2. অনাদি বর্ণের সঙ্গে ব-ফলা যুক্ত হলে বর্ণটি দ্বিত্ব উচ্চারিত হয়। যথা: বিশ্ব, স্বত্ব (উচ্চারণে যথাক্রমে বিশ্‌শো, শত্‌তো)।
  3. হ্-এর সাথে ব-ফলা যুক্ত হলে এই ব-ফলা কখনো কখনো (ক) “উ”-রূপে হ্-এর আগে উচ্চারিত হয়। যথা—জিহ্বা (উচ্চারণে “জিউভা”); (খ) “ও”- রূপে হ্-এর আগে উচ্চারিত হয়। যথা—আহ্বান (উচ্চারণে ‘আওভান’—এসব ক্ষেত্রে “হ্” “ভ্”–তে পরিণত হতে দেখা যায়)।

হ্ন ও হ্ণ যুক্তাক্ষর

রূপ দুটি যথাক্রমে‘হ্’ ও ‘ন’ এবং ‘হ্’ ও ‘ণ’–এর যুক্তরূপ। যুক্তবর্ণ দুটির উচ্চারণ প্রায়ই “ন্‌হ” অথবা “ন্‌ন” । যথা : মধ্যাহ্ন; চিহ্ন; অপরাহ্ণ (উচ্চারণ যথাক্রমে মধ্যান্‌হো, চিন্‌হো, অপরান্‌হো)। যুক্তবর্ণ দুটি কখনো শব্দের আদিতে বসে না।

হ্ম যুক্তাক্ষর

“হ্” ও “ম” বর্ণ দুটির যুক্তরূপ। ব্রহ্ম, ব্রহ্মা, সুহ্ম প্রভৃতি (বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত) তৎসম এবং আহ্মার, আহ্মে (আম্‌হে), তুহ্মে (তুম্‌হে) প্রভৃতি প্রাচীন বাংলা শব্দে “হ্ম” বর্ণটির ব্যবহার দেখা যায়। “হ্ম” বর্ণটির বাংলা উচ্চারণ “ম্‌হ” (বাংলা ভাষাভাষী কোনো কোনো অঞ্চলে “ম্‌ভ”)। “হ্ম”-এর ধ্বনিগত নাম ঘোষ (voiced) মহাপ্রাণ (aspirated) ওষ্ঠ্য (bilabial) নাসিক্য (nasal)। শব্দের আদিতে ‘হ্ম’ দেখা যায় না।

হ্ল যুক্তাক্ষর

“হ” ও “ল” বর্ণদ্বয়ের যুক্তরূপ। হ্লাদ, হ্লাদিনী, আহ্লাদ প্রভৃতি কয়েকটি সংস্কৃত শব্দে যুক্তবর্ণটির প্রয়োগ দেখা যায়। যুক্ত বর্ণটি প্রায়ই “ল্‌হ”, বা “ল্ল” রূপে উচ্চারিত হয়। কিন্তু অধ্যাপক মুহম্মদ আবদুল হাই-এর উক্তি এ প্রসঙ্গে প্রণিধানযোগ্য:

‘ল’ উচ্চারণের জন্য জিভের ডগা দাঁতের গোড়ায় স্পর্শ করিয়ে বাতাসের অতিরিক্ত চাপ দিলেই ‘ল্‌হ’-এর যথার্থ উচ্চারণ পাওয়া যায়।

হ্ল (ল্‌হ) মহাপ্রাণ (aspirated) ঘোষ (voiced) ওষ্ঠ্য (bilabial) নাসিক্য (nasal)। শব্দের আদি বর্ণরূপে “হ্ল” দেখা যায় না ।

যুক্তবর্ণ-বিশিষ্ট শব্দ প্রমিতকরণের নিয়ম

যুক্তবর্ণ-বিশিষ্ট শব্দগুলো প্রমিতকরণের (Standardization) নিয়মগুলো উল্লেখ করা সংগত বোধ করছি। কেননা বাংলা শব্দ প্রমিতকরণের ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব যুক্তবর্ণগুলোকে বাদ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আবার কোনো কোনো শব্দের বর্ণসংযুক্তি পরিবর্তন করা হয়েছে।

এ অংশে বর্ণিত নিয়মগুলো “বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম: পরিমার্জিত সংস্করণ” এবং “বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান” অনুসারে বর্ণিত হয়েছে। যুক্তবর্ণ-বিশিষ্ট শব্দগুলো মূলত তিনভাবে প্রমিত করা হয়েছে।

  • যুক্তবর্ণ বর্জন করে: যেমন: অহংকার, ভয়ংকর, খিদে, শেকসপিয়র ইত্যাদি।
  • বর্ণসংযুক্তি পরিবর্তন করে: যেমন: ভাণ্ডার > ভান্ডার।
  • বিদেশী শব্দের ক্ষেত্রে প্রমিতকরণ। যেমন: স্টোর, স্টেশন ইত্যাদি।

ব্যঞ্জন দিত্বতা

রেফের পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। অর্থাৎ একই বা কাছাকাছি উচ্চারিত ব্যঞ্জনবর্ণের পুনরাবৃত্তি হবে না। যেমন:- অর্জ্জন, ঊর্দ্ধ্ব, কর্ম্ম, কার্ত্তিক, কার্য্য, বার্দ্ধক্য, মূর্চ্ছা, সূর্য্য ইত্যাদির পরিবর্তে যথাক্রমে অর্জন, ঊর্ধ্ব, কর্ম, কার্তিক, কার্য, বার্ধক্য, মূর্ছা, সূর্য ইত্যাদি হবে।

ঙ ও ং

সন্ধির ক্ষেত্রে ক খ গ ঘ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত ম্ স্থানে অনুস্বার (ং) বসবে। যেমন :

অহম + কার = অহংকার।

এভাবে ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, হৃদয়ংগম, সংঘটন।

সন্ধিবদ্ধ না হলে ঙ স্থানে ং হবে না। যেমন : অঙ্ক, অঙ্গ, আকাঙ্ক্ষা, আতঙ্ক, গঙ্গা, বঙ্কিম, বঙ্গ, লঙ্ঘন, শঙ্কা, শৃঙ্খলা, সঙ্গে, সঙ্গী ইত্যাদি।

ঙ্গ ও ঙ

কিছু শব্দ আগে ঙ্গ ও ঙ দুটি দিয়েই লেখা হতো, বর্তমানে শুধু ঙ ব্যবহার করাকে প্রাধান্য দেয়া হয়। যেমন:- আঙুর, আঙুল, কাঙাল, কামরাঙা, ক্যাঙারু, ঘুঙুর, চাঙা, চোঙা, জাঙাল, জাঙিয়া, ঝিঙা/ঝিঙে, ঝিঙুর, টাঙানো, ঠোঙা, ঠ্যাঙা, ঠ্যাঙানো, ডাঙর, ডাঙা, ডিঙা, ডিঙানো, ডিঙি, ঢ্যাঙা, নোঙর, পাঙাশ, ফিঙে, বাঙাল, বাঙালি, ভাঙা, মাছরাঙা, রঙিন, রাঙা, রাঙামাটি, লাঙল, শিঙা, শিঙাড়া, সঙিন, সাঙাত, হাঙর ইত্যাদি।

ক্ষ ও খ

অতৎসম শব্দ খিদে, খুদ, খুদে, খুর (গবাদি পশুর পায়ের শেষ প্রান্ত), খেত, খ্যাপা ইত্যাদি লেখা হবে।

মূর্ধন্য ণ ও দন্ত্য ন

অতৎসম শব্দের বানানে ণ ব্যবহার করা হবে না। যেমন : গভর্নর, হর্ন।

তৎসম শব্দে ট ঠ ড ঢ-য়ের পূর্বে যুক্ত নাসিক্যবর্ণ ণ হয়, যেমন : কণ্টক, প্রচণ্ড, লুণ্ঠন।

কিন্তু অতৎসম শব্দের ক্ষেত্রে ট ঠ ড ঢ-য়ের আগে কেবল ন হবে। যেমন : গুন্ডা, ঝান্ডা, ঠান্ডা, ডান্ডা, লন্ঠন।

ষ ও স

বিদেশি শব্দের ক্ষেত্রে ‘ষ’ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। যেমন : স্মার্ট, স্টল, স্টাইল, স্টিমার, স্ট্রিট, স্টুডিয়ো, স্টেশন, স্টোর।

বিদেশি শব্দ ও যুক্তবর্ণ

বাংলায় বিদেশি শব্দের আদিতে বর্ণবিশ্লেষ সম্ভব নয়। এগুলো যুক্তবর্ণ দিয়ে লিখতে হবে। যেমন : স্টেশন, স্ট্রিট, স্প্রিং।

তবে অন্য ক্ষেত্রে বিশ্লেষণ করা যায়। যেমন : মার্কস, শেকসপিয়র, ইসরাফিল।

যুক্তবর্ণের শুদ্ধ ও প্রমিত প্রয়োগ

আগের অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিয়ম অনুসারে অনেক শব্দে যুক্তবর্ণের ব্যবহার এখন আর শুদ্ধ/প্রমিত নয়। এছাড়া অজান্তে অনেক শব্দে আমরা ভুল যুক্তবর্ণ ব্যবহার করে থাকি। এ ধরনের কিছু শব্দের শুদ্ধ ও প্রমিত রূপ এবং অশুদ্ধ বা অপ্রমিত রূপ নিচে দেয়া হলো।

শুদ্ধ ও প্রমিতঅশুদ্ধ/অপ্রমিতমন্তব্য
অঙ্কঅংক
অঙ্কনঅংকন
অঙ্কুরঅংকুর
অঙ্গারঅংগার
অচিন্তনীয়অচিন্ত্যনীয়
অপক্বঅপক্কক্ + ব
অপরাহ্ণঅপরাহ্নহ্ + ণ
অপরিষ্কারঅপরিস্কার
অবগুণ্ঠনঅবগুন্ঠন
অবাঙালিঅবাঙালী/অবাঙ্গালী
অভ্যস্তঅভ্যস্থ
অমরত্বঅমরত্ত্ব
অমাবস্যাঅমাবশ্যা
অলংকরণঅলঙ্করণ
অলংকারঅলঙ্কার
অশ্বত্থঅশ্বথত্ + থ
অসংগতঅসঙ্গত
অহংকারঅহঙ্কার
আগস্টআগষ্টAugust
আঙুরআঙ্গুর
আঙুলআঙ্গুল
আতঙ্কআতংক
আত্তীকরণআত্মীকরণ
আত্মস্থআত্মস্ত
আবরুআব্রু
আবিষ্কারআবিস্কার
আমসত্ত্বআমসত্ব, আমসত্ত
আয়ত্তআয়ত্ব
আয়ুষ্কালআয়ুস্কাল
আর্জিআরজি
আর্তিআরতি
আর্দ্রআদ্র
আলংকারিকঅলংকারিক
আলপনাআল্পনা
আশঙ্কাআশংকা
ইউনেসকোইউনেস্কোUNESCO
ইঙ্গিতইংগিত
ইজতেমাএস্তেমা
ইনজেকশনইঞ্জেকশনinjection
ইয়ার্কিইয়ারকি
ইলেকট্রিকইলেক্ট্রিকelectric
ইশতাহার, ইশতেহারইস্তেহার
ইষ্টিকুটুমইস্টিকুটুম
ইসরাফিলইস্রাফিল
উচ্ছলউচ্ছ্বল
উচ্ছিষ্টউচ্চিষ্ট
উচ্ছৃঙ্খলউচ্ছৃংখল
উচ্ছ্বাসউচ্ছাস
উজ্জ্বলউজ্জল
উত্তুঙ্গউত্যুঙ্গ
উত্ত্যক্তউত্যক্ত
উদ্‌গিরণউদ্গীরণ
উদ্‌ঘাটনউদ্ঘাটন
উদ্ধারউদ্দার
উদ্‌বেগউদ্বেগ
উদ্‌ভ্রান্তউদ্ভ্রান্ত
উদ্‌যাপনউদযাপন
উপলক্ষ্যউপলক্ষ
উলকিউল্কী
উল্লম্ফনউলম্ফন
উষ্মাউস্মা
ঊর্ধ্বউর্দ্ধ
ঊর্ধ্বতনঊর্ধতন
ঊর্ধ্বাঙ্গউর্ধাঙ্গ
ঋত্বিকঋত্মিক
ঋদ্ধঋদ্দ
ঋষিত্বঋষিত্য
এখতিয়ারএক্তিয়ার
এতদ্দ্বারাএতদ্বারাদ্ + দ্ + ব
এন্তারএনতার
এসরাজএস্রাজ
এস্টেটএষ্টেটestate
ঔজ্জ্বল্যউজ্জ্বল্য
ঔদ্ধত্যঔদ্ধত্ব
কঙ্কালকংকাল
কণ্টককন্টক
কলঙ্ককলংক
কাঙালকাঙ্গাল
কাঙ্ক্ষিতকাঙ্খিত
কাণ্ডকান্ড
কান্ডারিকাণ্ডারী
কামরাঙাকামরাঙ্গা
কার্ফিউকারফিউ, কারফুcurfew
কার্যকার্য্য
কার্যালয়কার্য্যালয়
কিংকরকিঙ্কর
কুণ্ঠাকুন্ঠা
কুণ্ডলীকুন্ডলি
কুমকুমকুঙ্কুম
কুলাঙ্গারকুলাংগার
কুলুঙ্গিকুলুঙ্গী
কূপমণ্ডূককূপমণ্ডুক
কেতাদুরস্তকেতাদরস্থ
কেলেঙ্কারিকেলেঙ্কারী
ক্যাঙারুক্যাঙ্গারু
ক্যানটিনক্যান্টিন
ক্যানসারক্যান্সার
খড়্‌গখড়গ
খণ্ডখন্ড
খণ্ডনখন্ডন
খানদানিখান্দানি
খিদে, ক্ষুধাক্ষিদে
খুদক্ষুদ
খুদেক্ষুদে
খেতক্ষেত
খোদক্ষোদ
খ্যাপাক্ষ্যাপা
খ্রিষ্টখ্রিস্ট
খ্রিষ্টানখ্রিস্টান
খ্রিষ্টাব্দখ্রিস্টাব্দ, খৃস্টাব্দ
গচ্চাগচ্ছা
গণসংগীতগণসঙ্গীত
গণ্ডিগন্ডি
গণ্ডূষগণ্ডুষ
গন্ডাগণ্ডা
গর্ভস্থগর্ভস্ত
গলগণ্ডগলগন্ড
গাঙ্গেয়গাংগেয়
গাণ্ডিবগাণ্ডীব
গার্হস্থ্যগার্হস্থ
গুন্ডাগুণ্ডা
গ্রীষ্মগ্রীস্ম
গ্রেপ্তার, গ্রেফতারগ্রেপতার
গ্র্যাচুইটিগ্রাচুইটিgratuity
গ্র্যাজুয়েটগ্রাজুয়েটgraduate
গ্র্যানাইটগ্রানাইটgranite
গ্লাসগেলাস
ঘণ্টাঘন্টা
ঘনিষ্ঠঘনিষ্ট
ঘুঙুরঘুঙ্গুর
চতুঃসীমাচতুর্সীমা
চতুরঙ্গচতুরংগ
চতুষ্কোণচতুর্কোণ
চতুষ্পদচতুর্পদ
চতুষ্পার্শ্বচতুর্পার্শ্ব
চত্বরচত্তর
চলনশক্তি, চলচ্ছক্তিচলৎশক্তি
চাঙাচাঙ্গা, চাংগা
চামুণ্ডাচামুন্ডা
চোঙাচোঙ্গা
চোস্তচোশ্ত
চ্যান্সেলরচ্যানসেলর
চ্যাপটাচ্যাপ্টা
ছত্রভঙ্গছত্রভংগ
জঙ্গলজংগল
জর্দাজর্দ্দা, জরদা
জলতরঙ্গজলতরংগ
জলাতঙ্কজলাতংক
জলোচ্ছ্বাসজলোচ্ছাস
জাঙালজাঙ্গাল
জাঙিয়াজাঙ্গিয়া
জাজ্বল্যমানজাজ্জ্বল্যমান
জীবন্মৃতজীবনমৃত
জীবাশ্মজীবাষ্ম
জ্যেষ্ঠজেষ্ঠ্য
জ্যৈষ্ঠজৈষ্ঠ্য
জ্যোতিষ্কজ্যোতিস্ক
ঝংকারঝঙ্কার
ঝঞ্ঝাঝঞ্জা
ঝঞ্ঝাটঝঞ্জাট
ঝরনাঝর্ণা
ঝান্ডাঝাণ্ডা
ঝিঙা, ঝিঙেঝিঙ্গা, ঝিঙ্গে
ঝিঙুরঝিঙ্গুর
টাঙানোটাঙ্গানো
টুরিস্টট্যুরিস্টtourist
ট্যাংকট্যাঙ্কtank
ট্যাংরাটেংরা
ট্যানারিটেনারিtannery
ট্যাবলেটটেবলেটtablet
ট্রাইবুনালট্রাইব্যুনালtribunal
ট্রাস্টট্রাষ্টtrust
ট্রাস্টিট্রাষ্টিtrusty
ঠান্ডাঠান্ডা
ঠোঙাঠোঙ্গা
ঠ্যাঙাঠ্যাঙ্গা
ঠ্যাঙানোঠ্যাঙ্গানো
ডঙ্কাডংকা
ডরমিটরিডরমেটরি, ডর্মেটরিdormitory
ডাঙরডাঙ্গর
ডাঙাডাঙ্গা
ডান্ডাডাণ্ডা
ডিঙা, ডিঙিডিঙ্গা, ডিঙ্গি
ডিঙানোডিঙ্গানো
ডেঙ্গুডেংগুdengue
ডেন্টিস্টডেনটিস্টdentist
ডেমোক্রেসিডেমোক্র্যাসিdemocracy
ডেমোক্র্যাটডেমোক্রেটdemocrat
ডেস্কডেসকdesk
ঢ্যাঙাঢ্যাঙ্গা
তত্ত্বীয়তত্ত্বিয়
তদবিরতদ্বির
তরঙ্গতরংগ
তরজমাতর্জমা
তাণ্ডবতান্ডব
তিরস্কারতিরষ্কার
তুঙ্গতুংগ
তেজস্ক্রিয়তেজষ্ক্রীয়
ত্রিশঙ্কুত্রিশংকু
থুত্থুড়ে, থুড়থুড়েথুথ্থুরেত্ + থ
থ্রমবোসিসথ্রম্বসিসthrombosis
দঙ্গলদংগল
দণ্ডনীয়দণ্ডনিয়
দর্জিদরজি
দাঙ্গাদাংগা
দিগ্‌গজদিকগজ
দিগ্‌দর্শনদিকদর্শন
দিগ্‌দিগন্তদিকদিগন্ত
দিগ্‌বিদিকদিকবিদিক
দিগ্‌ভ্রমদিকভ্রম
দিগ্‌ভ্রান্তদিকভ্রান্ত
দিনদ্বীনধর্ম অর্থে
দিনদারদ্বীনদার
দৌরাত্ম্যদৌরাত্ম
দ্ব্যর্থবোধকদ্ব্যার্থবোধক
ধনুষ্টঙ্কারধনুস্টংকার
ধাতস্থধাতস্ত
ধ্বজাধজা
নকশানক্সা
নকশিনকশী, নক্সী
নমস্কারনমষ্কার
নিকটস্থনিকটস্ত
নিক্বণনিক্কনক্ + ব
নিয়মনিষ্ঠনিয়মনিষ্ট
নিরঙ্কুশনিরংকুশ
নিরহংকারনিরহংকারী, নিরহঙ্কার
নোঙরনোঙ্গর
ন্যূনতমনূন্যতম
পকেটস্থপকেটস্ত
পক্বপক্কক্ + ব
পঙ্কিলপংকিল
পঙ্‌ক্তিপংক্তি, পঙক্তি
পঙ্গপালপংগপাল
পঙ্গুপংগু
পণ্ডপন্ড
পণ্ডিতপন্ডিত
পতঙ্গপতংগ
পয়মন্তপয়মন্থ
পরিপক্বপরিপক্কক্ + ব
পরিষ্কারপরিস্কার
পশ্চাদ্ধাবনপশ্চাৎধাবন
পাঙাশপাঙ্গাশ
পাদরিপাদ্রী
পাপিষ্ঠপাপিষ্ট
পালঙ্কপালংক
পিঙ্গলপিংগল
পিণ্ডপিন্ড
পুরস্কারপুরষ্কার
পূর্বাহ্ণপূর্বাহ্নহ্ + ণ
পেনসিলপেন্সিলpencil
পোস্টপোষ্ট
প্রচণ্ডপ্রচন্ড
প্রজ্বলনপ্রজ্জ্বলন
প্রত্নতত্ত্বপ্রত্নতত্ব
প্রলয়ংকরপ্রলয়ঙ্কর
প্রসঙ্গপ্রসংগ
প্রস্থপ্রস্ত
ফরসাফর্সা
ফর্মফরমform
ফর্মাফরমাforma
ফাল্গুনীফালগুনি
ফিঙেফিঙ্গে
ফিলটারফিল্টারfilter
ফেরেশতাফেরেস্তা
ফ্লাস্কফ্লাষ্কflask
ফ্ল্যাগফ্লাগflag
ফ্ল্যাটফ্লাটflat
ফ্ল্যানেলফ্লানেলflannel
বক্ষ্যমাণবক্ষমাণ
বন্ধ্যাবন্ধা
বয়স্কবয়ষ্ক
বরাদ্দবরাদ্ধ
বহিষ্কারবহিস্কার
বাঙালবাঙ্গাল
বাঙালিবাঙ্গালি, বাঙ্গালী
বাষ্পবাস্প
বাষ্পীয়বাস্পীয়
বিশৃঙ্খলাবিশৃংখলা
বুদ্‌বুদবুদবুদ, বুদ্বুদ
বেহেশতবেহেস্ত
বৈচিত্র্যবৈচিত্র
বৈদগ্ধ্যবৈদগ্ধ
বৈশিষ্ট্যবৈশিষ্ট
ব্যারিস্টারব্যারিষ্টারbarrister
ব্রংকাইটিসব্রঙ্কাইটিসbronchitis
ব্রিটিশবৃটিশBritish
ব্রিটেনবৃটেনBritain
ব্রেকফাস্টব্রেকফাষ্টbreakfast
ভঙ্গভংগ
ভঙ্গিভঙ্গী
ভঙ্গিমাভংগিমা
ভঙ্গুরভংগুর
ভণ্ডভন্ড
ভণ্ডামিভন্ডামী
ভন্ডুলভণ্ডুল
ভয়ংকরভয়ঙ্কর
ভস্মভষ্ম
ভাঙনভাঙ্গা
ভাঙাভাঙ্গা
ভাণ্ডভান্ড
ভান্ডারভাণ্ডার
ভেলকিভেল্কি
মধ্যাহ্নমধ্যাহ্ণহ্ + ন
মনস্থমনস্ত
মন্বন্তরমন্নন্তর
মফস্‌সলমফস্বল, মফঃস্বল
মস্তিষ্কমস্তিস্ক
মাছরাঙামাছরাঙ্গা
মার্কসমার্ক্সmarks
মাস্টারমাষ্টারmaster
মাস্টারিমাষ্টারী, মাস্টারী
মিক্সচারমিকচার, মিক্সারmixture
মুখস্থমুখস্ত
মুড়িঘণ্টমুড়িঘন্ট
মুনমিয়ানামুন্সিয়ানা
মুনশিমুনসি, মুন্সি
মুষ্টিমুষ্ঠি
মূর্ছামূর্চ্ছা
ম্যাংগানিজম্যাঙ্গানিজ, ম্যাংগানিযmanganese
ম্যাজিস্ট্রেটম্যাজিষ্ট্রেটmagistrate
যক্ষ্মাযক্ষা
যথেষ্টযথেষ্ঠ
যুক্তিসংগতযুক্তিসঙ্গত
রঙিনরঙ্গিন
রপ্তানিরফতানি
রাঙারাঙ্গা
রাঙামাটিরাঙ্গামাটি
রিকশারিক্সা
রুগ্‌ণরুগ্ন
রেজিস্ট্রিরেজিষ্ট্রিregistry
রোদ্দুররোদদুর
রোস্টরোষ্টroast
রৌপ্যালংকাররৌপ্যালঙ্কার
লংগরখানালঙ্গরখানা
লক্ষণীয়লক্ষ্যণীয়
লগনাঙ্কগলনাংক
লঘিষ্ঠলঘিষ্ট
লঙ্কাকাণ্ডলংকাকান্ড
লঙ্ঘনলংঘন
লজ্জাকরলজ্জাষ্কর
লন্ঠনলণ্ঠনlantern
লন্ডনলণ্ডনLondon
লন্ডভন্ডলণ্ডভণ্ড
লবঙ্গলবংগ
লাঙললাঙ্গল
লুণ্ঠনলুন্ঠন
লোকসংগীতলোকসঙ্গীত
শংকরশঙ্কর
শঙ্কাশংকা
শঙ্খশংখ
শাশ্বতশ্বাশত
শিঙাশিঙ্গা
শিঙাড়াশিঙ্গাড়া, সিঙ্গারা
শিরশ্ছেদশিরচ্ছেদ
শুভংকরশুভঙ্কর
শৃঙ্খলাশৃংখলা
শৃঙ্গশৃংগ
শেকসপিয়রশেক্সপিয়র
শ্বশুরশশুর
ষন্ডাষণ্ডা
সংকটসঙ্কট
সংকরসঙ্কর
সংকীর্ণসঙ্কীর্ণ
সংকীর্তনসঙ্কীর্তন
সংকুচিতসঙ্কুচিত
সংকেতসঙ্কেত
সংকোচসঙ্কোচ
সংগতসঙ্গত
সংগতিসঙ্গতি
সংগমসঙ্গম
সংগীতসঙ্গীত
সংগোপনসঙ্গোপন
সংঘসঙ্ঘ
সংঘটনসঙ্ঘটন
সংজ্ঞাসঙ্গা
সংবরণসম্বরণ
সংবর্ধনাসম্বর্ধনা
-সংবলিত-সম্বলিত
সংবিৎসম্বিত, সংবিত
সঙিনসঙ্গিন
সচ্ছলস্বচ্ছল
সত্তাসত্বা
সত্ত্বেওসত্বেও
সবজিসব্জি, সব্জী
সাঙাতসাঙ্গাত
সামর্থ্যসামর্থ
সায়াহ্নসায়াহ্ণহ্ + ন
সুড়ঙ্গসুড়ঙ
সূক্ষ্মসুক্ষ
সৌহার্দ্যসৌহার্দ
স্টলষ্টলstall
স্টাইলষ্টাইলstyle
স্টিমারষ্টীমারsteamer
স্টুডিয়োষ্টুডিওstudio
স্টেশনষ্টেশনstation
স্টোরষ্টোরstore
স্ট্রিটষ্ট্রিটstreet
স্প্রিংষ্প্রিংspring
স্বাচ্ছন্দ্যস্বাচ্ছন্দ
স্বায়ত্তশাসনস্বায়ত্বশাসন
স্মার্টষ্মার্টsmart
স্লোগানশ্লোগানslogan
হজহজ্ব
হাঙরহাঙ্গর
হুংকারহুঙ্কার
হৃদয়ংগমহৃদয়ঙ্গমনোট ১ দ্রষ্টব্য
হোস্টেলহোষ্টেলhostel

১। বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানে ভুক্তি হিসেবে “হৃদয়ঙ্গম” শব্দটি রয়েছে। তবে ১৪১০ পৃষ্ঠায় প্রমিত শব্দের নিয়মে “হৃদয়ংগম”-কে প্রমিত হিসেবে দেয়া রয়েছে।

কৃতজ্ঞতা:

  • বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। সম্পাদক: জামিল চৌধুরী। পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত সংস্করণ: এপ্রিল ২০১৬।
  • বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান। প্রধান সম্পাদক: ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক। সম্পাদক: শিবপ্রসন্ন লাহিড়ী। পরিমার্জিত সংস্করণ, চতুর্থ পুনর্মুদ্রণ: সেপ্টেম্বর ২০০৩।
  • বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান। সম্পাদক: আহমদ শরীফ। পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ: ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।